সিলেটThursday, 24 September 2026

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেদের ঘর ভাঙচুর

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে হত্যা মামলার দায় এড়াতে অভিযুক্তরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করে প্রতিপক্ষ ও স্থানীয়দের হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহ দ্বীপ।

সোমবার স্থানীয়ভাবে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে শাহ দ্বীপ এসব অভিযোগ করেন। তিনি জানান, দিরাই থানার এসআই শাহ আলমের সামনেই অভিযুক্তরা তাদের ঘরের ধান ও মালামাল নিজ দায়িত্বে অন্য জায়গায় সরিয়ে রেখেছে। তারপরও তারা একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট ষড়যন্ত্র করে তাদের ওপর মামলা দিচ্ছে।

শাহ দ্বীপ দাবি করেন, একটি হত্যা মামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা নিজেদের রক্ষা করতে এবং আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে পরিকল্পিতভাবে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টার পাশাপাশি তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে উক্ত হত্যা মামলার ৬৯ নম্বর আসামি সাদেক মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে লুটপাট ও ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কেউ কারও কবরের জবাব দেবে না। এগুলো তার স্বামীর গোষ্ঠীর সবাই মিলে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে মেম্বার শাহ দ্বীপের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এসংক্রান্ত কথাগুলোর ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগকারী মসকুর আলীর আপন ভাইও লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাকে নিজেদের সাজানো বলে বক্তব্য প্রদান করেছেন।

শাহ দ্বীপের দাবি, বিগত ২১ মে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রেণুকা বেগম লুটপাট ও ভাঙচুরের দাবি করে দিরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা না পেলে, সেই খবর পেয়ে আবার নিজেদের করা লুটপাট ও ভাঙচুর বাড়িয়ে দেখিয়ে গত ২৪ আগস্ট আদালতে নতুন করে মহসিন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলা করেন।

শাহ দ্বীপের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে জানা যায়, বেশ কয়েকবার ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ দ্বীপের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলীনগর গ্রামে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতে মামলা হয়েছে তবে তা এখনো দিরাই থানায় আসেনি। থানায় আসলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, হত্যা মামলার আসামিরা হলেন— ১. রফিকুল ইসলাম, ২. আমিন মিয়া, ৩. মহসিন মিয়া, ৪. সফিজুল, ৫. শাহিরান মিয়া, ৬. মনির মিয়া, ৭. হাবিজ নুর, ৮. সপন, ৯. আবুল কাশেম, ১০. পাবেল, ১১. ছমক, ১২. কেজুর নুর, ১৩. নুর হুসেন, ১৪. আলামিন, ১৫. জিয়ার রহমান, ১৬. মেহেরুল, ১৭. রেজুয়ান, ১৮. শাহাজান, ১৯. জামাল, ২০. হাসিদ নুর, ২১. সাইদুর, ২২. আজিজ, ২৩. সবুজ, ২৪. আনার আলী, ২৫. মজর আলী, ২৬. সেলিম, ২৭. আল্লাদ, ২৮. তাজ মিয়া, ২৯. আইবুল, ৩০. গোলাম তোহা, ৩১. মুহিত, ৩২. নুরুল আমীন, ৩৩. গোলাম ইলিয়াস এবং ৩৪. মুশাহিদ।

সিটি/জাহা/সুপ্র

সংবাদ প্রকাশক

জাহাঙ্গীর আলম সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীর আলম সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সর্বশেষ - চায়ের রাজ্য