সিলেটের বিশ্বখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ডেগ খুলে ৩৪ দিনে মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ এ অর্থের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যসহ নানা আকুতির চিঠি পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে টানা প্রায় পৌনে আট ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে প্রকাশ্যে এই গণনার কাজ শেষ হয়।
গণনা শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের সর্বমোট টাকার পরিমাণ এবং অন্যান্য সামগ্রীর আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সিসিক প্রশাসক জানান, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীসহ প্রায় ৩০ জন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁতভাবে এসব টাকা ও উপহার সামগ্রী গণনা করেন। চূড়ান্ত গণনায় ৩৪ দিনে দানবাক্স ও ডেগে মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে।
পাওয়া গেছে ১৯ দেশের মুদ্রা ও সোনা-রূপা: নগদ টাকা ছাড়া মাজারের দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাজ্যের ৩১.১১ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার২৪৮ রুপি, পাকিস্তানের ৬০ রুপি, সৌদি আরবের ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম ২২ সেন্ট, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুরস্কের ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১ হাজার ডং, জাপানের ১ হাজার ইয়েন, কাতারের ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের ১০ পাউন্ড, মিশরের ১০ পাউন্ড, বাহরাইনের ১ পয়সা, কানাডার ১ ডলার এবং ৪০ ইউরো সেন্ট।
এছাড়া পাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যের মধ্যে রয়েছে— ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রৌপ্য। পাশাপাশি ভক্তদের নজরানা হিসেবে দেওয়া গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির পৃথক হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে বলে জানানো হয়।
আর্থিক স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘মাজারের আর্থিক রূপরেখা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার নীতিমালা তৈরি করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে আমাদের কয়েকজনকে নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অচিরেই একটি স্থায়ী নীতি নির্ধারণ করে দেবো। সেই নীতিমালার আলোকেই পরবর্তীতে স্বচ্ছতার সাথে টাকা গণনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হবে।’
উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গঠিত কমিটির উদ্যোগে এটি ছিল ৩য় দফার প্রকাশ্যে টাকা গণনা। এর আগে প্রথম দফায় ২২ জুন ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যা সুনির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে। এবার ৩৪ দিনের ব্যবধানে রেকর্ড ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা প্রাপ্তিতে সর্বকালের নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হলো।
সিটি/লিআ/নিপ্র
সংবাদ প্রকাশক
তার প্রকাশিত সর্বশেষ সংবাদ
চায়ের রাজ্যSeptember 20, 2026সিলেটে দুই দিনে ৯ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী আটক
চায়ের রাজ্যSeptember 19, 2026এক মাস পর খুলল শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্স
চায়ের রাজ্যSeptember 15, 2026গণতন্ত্র রক্ষাই এখন প্রধান কাজ: সিলেটে রাষ্ট্রপতি
চায়ের রাজ্যSeptember 15, 2026শাহজালালের মাজারে রাষ্ট্রপতি, দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত

















