সিলেটTuesday, 6 October 2026

জ্যোৎস্নার রাতে চৈতালীর কণ্ঠে মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

জ্যোৎস্নামাখা রাতে কালজয়ী বাংলা গানের সুরে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ। কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির একক সংগীত সন্ধ্যায় প্রেম, বিরহ ও স্মৃতিমেদুর গানের আবেশে মুগ্ধ হন উপস্থিত শ্রোতারা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ছাদে ‘আলোর ইশকুল—চৈতন্যের আলোকযাত্রা’র বিশেষ আয়োজনে এ সংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যদের আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে অনুষ্ঠান।

তিন ঘণ্টার পরিবেশনায় চৈতালী মুখার্জি বাংলা গানের বেশ কিছু জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান পরিবেশন করেন। এর মধ্যে ছিল ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’, ‘এ শুধু গানের দিন’, ‘এ লগন গান শোনাবার’, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা’, ‘মরমী গো, আজি মনের কথাটি বলোনা’, ‘এই মন জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে’, ‘অলিরও কথা শুনে বকুল হাসে’, ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’, ‘তারা ঝিলমিল স্বপ্ন মিছিল’, ‘তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়’, ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ’, ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে’, ‘যদি কাগজে লেখ নাম মুছে যাবে’, ‘নদীর যেমন ঝরনা আছে, আমার আছে তুমি’ ও ‘আমার সন্ধ্যায় প্রান্ত পাখিরা’সহ আরও বেশ কিছু গান।

গানের পরিবেশনায় কখনো প্রেমের আবেশ, কখনো বিরহের সুর, আবার কখনো পুরোনো দিনের স্মৃতির আবহ ফুটে ওঠে। জ্যোৎস্নামাখা রাতের পরিবেশের সঙ্গে শিল্পীর কণ্ঠের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন শ্রোতারা। পরিবেশনা শেষে করতালি দিয়ে শিল্পীকে অভিবাদন জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চৈতালী মুখার্জির পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব, লেখক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ আলী খান শিল্পীর হাতে তাঁর সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি ও Song Offerings’ এবং তাঁর নিজের লেখা ‘৫০১ টাকা ও অন্যান্য গল্প’ বই দুটি উপহার দেন।

অনুষ্ঠান শেষে চৈতালী মুখার্জি বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটি জায়গায় একক সংগীত অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাওয়া তাঁর সংগীতজীবনের একটি বড় অর্জন। এমন আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতার চর্চায় কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির আঙিনায় সংগীতের এ আয়োজন সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সংগীতের একটি সংযোগ তৈরি করেছে বলে জানান আয়োজকরা।

সিটি/ডিআর

সংবাদ প্রকাশক

সিলেট ট্রিবিউন ডেস্ক

সর্বশেষ - বিশেষ সংবাদ