
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ধার দেওয়া ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় অভিযোগে ভাতিজা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন চাচা শরিফুল ইসলাম (৫২)।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ডুমুরিয়া (পাইকারটারী) গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, মেয়ের বিয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে রবিউল ইসলাম গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তাঁর কাছ থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার নেন। টাকা নেওয়ার পর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে ছয় মাসের মধ্যে পুরো টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন রবিউল—এমন দাবি করা হয়েছে মামলায়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও রবিউল টাকা ফেরত না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন শরিফুল। পরে গত ২৪ জুলাই বিকেলে কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রবিউলের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় রবিউল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শরিফুল ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতে সি.আর-৪১২/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। টাকা লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে অঙ্গীকারনামার মূল কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।
বাদী শরিফুল ইসলাম বলেন, “সম্পর্কের কারণে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। টাকা ফেরত চাইলে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে বা রাস্তায় দেখা হলে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন।”
বাদীর স্ত্রী জেসমিন বেগমের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বামীকে মারধর করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষী মশিয়ার রহমান জানান, রবিউল শরিফুলের কাছ থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্থানীয় বৈঠকগুলোতে টাকা পরিশোধের কথা স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শরিফুলের কাছে তাঁর কোনো টাকা পাওনা নেই। তাঁর দাবি, ছয় শতক জমি কেনার জন্য তিনি শরিফুলকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
টাকা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে কোনো নথি আছে কি না জানতে চাইলে রবিউল বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেসব নথি দেখাতে রাজি হননি। তাঁর ভাষ্য, “সময় হলে দেখাব, এখন দেখাব না।”
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি হুমকির অভিযোগ ওঠায় বাদী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বাদীপক্ষ।
সিটি/লতিআ
সংবাদ প্রকাশক




















