সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৭ হাজার টাকার বাকি লেনদেনকে ৭ লাখ টাকা দেখিয়ে চেক ডিজঅনারের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন মোছা. জাকিয়া খাতুন নামের এক গৃহবধূ। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এই হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন জাকিয়া খাতুন। তিনি উপজেলার পাতড়াখোলা গ্রামের ইউছুপ আলী গাজীর মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে জাকিয়া খাতুন জানান, ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ থেকে ৭৭ হাজার টাকার মুরগির খাদ্য বাকিতে ক্রয়ের সময় জামানত হিসেবে একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কিস্তিতে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করায় বকেয়া থাকে মাত্র ৭ হাজার টাকা। ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর দোকানে বসে হিসাব চূড়ান্ত করার সময় ব্যবসায়ী এয়াকুব আলী নিজ হাতে মেমোতে ৭ হাজার টাকা পাওনা লিখে দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তীতে মনিরুল নামের এক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে গিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জামানত হিসেবে রাখা চেকে ইচ্ছেমতো বড় অঙ্কের অঙ্ক বসিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চেকে ৭ লাখ টাকা উল্লেখ করে ঢাকার আদালতে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় সি.আর. মামলা (নম্বর- ৮৮২/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রকৃত হিসাব, হাতে লেখা মেমো এবং চেকের অঙ্ক নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাকিয়া খাতুন। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।