দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সিটিজেন হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসী অধিকারকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শেখ আল মামুন।
সিউলে আয়োজিত Seoul Bar Association-এর ১১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এবারের ‘সিটিজেন হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড’-এ শেখ আল মামুনের পাশাপাশি কোরিয়ার নারী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Korean Women Workers Association-কে সম্মানিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেন শেখ আল মামুন। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি, আবাসন ও শ্রমিকদের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতা তৈরি এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ আবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন শেখ আল মামুন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক ও শরণার্থীদের জীবনসংগ্রাম এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন তিনি।
তার নির্মিত ‘Vinylhouse Is Not a Home’ ও ‘No Way Out’ চলচ্চিত্রে অভিবাসী শ্রমিক ও শরণার্থীদের জীবন এবং তাদের বিভিন্ন সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। চলচ্চিত্র ও মানবাধিকার কার্যক্রমের মাধ্যমে কোরীয় সমাজে অভিবাসীদের জীবন ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরার বিষয়টিও সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পুরস্কার পাওয়ার পর শেখ আল মামুন বলেন, এ স্বীকৃতি শুধু তার একার নয়; দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, এটি তাদের সবার অর্জন। অভিবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশি হিসেবে এমন একটি সম্মাননা পাওয়ায় নিজের আনন্দ ও গর্বের কথাও জানান শেখ আল মামুন। তার ভাষ্য, এই স্বীকৃতি অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
Seoul Bar Association-এর আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি চো সুন-ইওলসহ আইন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মানবাধিকার পুরস্কারের পাশাপাশি আইনজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক থেকে অধিকারকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে শেখ আল মামুনের এই অর্জন দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
সিটি/এমকেএসটি