সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভা বাতিল করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্মসূচিতে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি ও উপজেলা নাগরিক উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে পৌরসভা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শ্যামনগর একটি উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও দারিদ্র্যের কারণে এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে বসবাস করছেন। এর মধ্যে পৌরকর, ট্যাক্স ও বিভিন্ন নাগরিক সেবার অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, পৌরসভা গঠনের ফলে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের একটি অংশ এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের একটি অংশ পৌর এলাকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো ও জনসাধারণের মধ্যে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি এসকে সিরাজ বলেন, “শ্যামনগরের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে আসছেন। তাদের ওপর বাড়তি পৌরকর ও বিভিন্ন ফি চাপিয়ে দেওয়া হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যায়। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তবতা, মানুষের মতামত ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে পৌরসভার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন, “পৌরসভা বাতিলের দাবি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা নাগরিক উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি গাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “শ্যামনগর একটি প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকা। এখানে অনেক মানুষ এখনো মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত না করে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো অযৌক্তিক।”
তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মতামত নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পৌরসভাটি জনগণের জন্য কতটা উপযোগী, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌরসভা বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে পৌরসভা গঠনের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো তদন্ত, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তবতা যাচাই এবং পৌরসভাটি জনগণের জন্য কতটা উপযোগী—তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জানান, পৌরসভা বাতিলের দাবিতে এর আগে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও দলিল লেখকদের কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ এবং উচ্চ আদালতে রিটের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তারা জানান।
কর্মসূচিতে উপজেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি ও উপজেলা নাগরিক উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, দ্রুত পৌরসভা বাতিলের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সিটি/রাসোশ্যাপ্র