আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের ধরণ ও পরিধিতে ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০১৬ সালের বিধিমালা বাতিল করে প্রণীত নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এসব নির্বাচনে এবার মিছিল, ঝুলন্ত পোস্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি যেকোনো বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের নতুন আচরণবিধিমালার গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্যান্যগুলোর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কোনো ধরণের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই (AI) ব্যবহার করে কুৎসা রটানো, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ইসিকে আগে থেকে জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালানো যাবে। এছাড়া দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল শব্দমাত্রায় প্রতি ওয়ার্ডে কেবল একটি মাইক ব্যবহার করা যাবে। ১টি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ১৬ বাই ৮ ফুটের একটির বেশি বিলবোর্ড রাখা যাবে না।
আচরণবিধিতে আরও জানানো হয়, কোনো ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না। একই সাথে নির্বাচনী প্রচারে কোনো প্রকার হেলিকপ্টার, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল বা নৌযানের মিছিল-শোভাযাত্রা এবং সরকারি সুবিধা ও যানবাহন ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তারাও কোনো প্রার্থীর প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
নতুন এই আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ইসি সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এছাড়া আইন ভঙ্গকারীর জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, আগামী নভেম্বরের শেষার্ধ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সিটি/ডেস্ক