সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৫ ধারা অমান্য করে কবরস্থান, দরগা ও মাদ্রাসাসংলগ্ন কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সামাদ ও তার চক্রের বিরুদ্ধে। জমিটি নিজেদের দখলে নিতে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা ছাড়াই একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ভুয়া সাইনবোর্ড ও টলঘর বসিয়ে দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, দেবহাটা থানার পারুলিয়া মৌজার আরএস ৩৫৭৫৩ ও ৩৫৭৫৬ (এসএ দাগ ১১২০৩) নম্বর দাগের সম্পত্তি নিয়ে গোলাম মহিউদ্দিন রনির সাথে আব্দুস সামাদের মামলা চলছে। ইতিপূর্বে নোটিশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এবার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভুয়া সাইনবোর্ড টাঙানো হলো। এ বিষয়ে বেসিক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মৃত্যুঞ্জয় কুমার গায়েন জানান, সাইনবোর্ডটি ব্যাংক থেকে লাগানো হয়নি এবং বারবার বলার পরও সামাদ তা সরিয়ে নেয়নি।
সামাদকে ‘চিহ্নিত ও প্রথম শ্রেণীর প্রতারক’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল ওহাব গাজী, আব্দুল মজিদ (৭৫) ও মাওলা বকস গাজী (৭৩) জানান, জমিটি প্রায় ১০০ বছর ধরে গোলাম নবী সাহেবের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। এখানে ১০০ বছরের পুরোনো তেঁতুল গাছ, পৈতৃক গোরস্থান, ঐতিহ্যবাহী দরগা ও মাদ্রাসা রয়েছে। পূর্বে অন্য ঘের দখলের অপরাধে সামাদ, তার বাবা ও ভাইসহ ৫ বছরের সাজা খেটেছিল। জামিনে বেরিয়ে সে আবারও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জমি দখলের পাঁতারা চালাচ্ছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার ও উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আব্দুস সামাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবহাটা থানার এএসআই আকিজুর রহমান বলেন, আদালতের নোটিশ পেয়ে উভয় পক্ষকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি/হাহা/সাপ্র