সিলেটের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় টানা দুই দিনব্যাপী পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা এই চোরাই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ও আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)–এর একটি চৌকস বিশেষ অপারেশন দল এবং অধীনস্থ বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) জোয়ানরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর ও চোরাচালানপ্রবণ একাধিক পয়েন্টে আকস্মিক তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হন সীমান্তরক্ষী সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, উন্নতমানের চা পাতা, লোভনীয় ফুচকা, শাড়ি, কম্বল, ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ এবং প্রসাধনী সামগ্রী। বিজিবির প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, দুই দিনে উদ্ধারকৃত এই অবৈধ সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য মোট ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ মাদক পাচার সম্পূর্ণ বন্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজিবির নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ কৌশলের অংশ হিসেবেই এই বড় ধরনের চোরাই চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক আরও বলেন, “জব্দকৃত সমস্ত পণ্যদ্রব্য সরকার নির্ধারিত প্রচলিত রাজস্ব বিধিমালা ও প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং চোরাকারবারীদের যেকোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।”
সীমান্তবর্তী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির এমন কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলোর স্বাভাবিক তৎপরতা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও বিজিবির কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।
সিটি/লিআ/নিপ্র