সিলেটের বিশ্বখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগগুলো উন্মুক্ত করে টাকা গণনার কাজ চলছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রকাশ্যে এই গণনার কাজ শুরু হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ নিয়ে তৃতীয় দফায় মাজারের দানবাক্স খোলা হলো। এর আগে চলতি বছরের ২২ জুন ও ১১ জুলাই প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগগুলোর সিলগালা খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ৩টি ডেগ ও ৩টি বড় দানবাক্স খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয় টাকা গোনা। প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর একটি দল এই গণনা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, আগের দুইবারের চেয়ে এবার দানবাক্সে টাকার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ১ মাস ৪ দিন (৩৪ দিন) পর দানবাক্সগুলো খোলায় দেশি মুদ্রার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও মিলেছে। টাকা গোনার কাজ শেষ হতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়।
পরবর্তীতে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর ২২ জুন প্রথম দফায় তা খুলে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।
দ্বিতীয় দফার ৩৪ দিন পর আজ তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হলো। দিনশেষে চূড়ান্ত গণনায় মোট কত টাকা ও মুদ্রা পাওয়া যায়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
সিটি/লিআ/নিপ্র