Sylhet Tribune 24
প্রকাশের তারিখ : Thursday, 13 August 2026
সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ঘাতক বাবুল আদালতে
Author
সিলেট ট্রিবিউন ২৪
Featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ‘১১১’ নম্বর বাসায় প্রবীণ দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি বাবুল মিয়াকে (৪০) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে ঘাতক বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শুকনো রক্তের দাগ লাগা ছোরাটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির।

ওসি জানান, ঘটনার পরদিনই অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনি থেকে ঘাতক বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল পুলিশের কাছে তিনজনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তার দেওয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থলের আশপাশের একটি স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে ঘটেছিল নৃসংস ৩টি খুন: পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে বাবুল ওই বাসায় গেলে তাহমিনা তাকে ভেতরে ঢোকান। এরপর ঘরের ভেতর একটি কক্ষে নিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এতে তাহমিনা অসম্মতি জানিয়ে চিৎকার ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কাছে থাকা ছোরা দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন বাবুল।

তাহমিনাকে বাঁচাতে ওই বাসার গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে শব্দ শুনে প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এসে ঘাতককে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে বাবুল। তিনজনকে হত্যার পর বাসার বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রবীণ দম্পতির প্রবাসে থাকা চার সন্তানই দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে। সেখান থেকে তারা সরাসরি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবা-মায়ের লাশ দেখতে যান। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দুটি রায়নগরের নিজস্ব বাসভবনে নেওয়া হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার আগামীকাল শুক্রবার দেশে পৌঁছালে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে। স্বজনরা জানান, নিহতের ছেলে দেশে পৌঁছানোর পর কোতোয়ালী থানায় প্রথাগত হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

নিহত প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন।

এদিকে, নির্মম এই ঘটনার পর রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসভবনে (নিকুঞ্জ ভিলা) সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিটি/লিআ/নিপ্র